• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
ডামি নির্বাচনে কুক্ষিগত ক্ষমতার নবায়ন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বেগবান করুন
ডামি নির্বাচনে কুক্ষিগত ক্ষমতার নবায়ন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বেগবান করুন

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

৭ জানুয়ারি’২৪ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে দেশের বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল পার্টি-সংগঠন এবং বুর্জোয়া বিরোধী দল বিএনপিসহ তাদের সমমনা দলগুলো। সেই সাথে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণও। কিন্তু হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার ডামি নির্বাচনের আয়োজন করে তাদের বশংবদ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। এমন একটি কুখ্যাত ডামি নির্বাচন করতে তারা বিরোধী বুর্জোয়া দল বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে ২৮ অক্টোবর’২৩ যে ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটিয়েছিলো দেশবাসী তা অবগত। বিএনপি’র ভেতরে ভাঙ্গন ধরানো এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাতে গ্রেফতারকৃত নেতাদের উপর নির্যাতন, চাপ সৃষ্টি, হালুয়া-রুটির প্রলোভনসহ এমন কোনো হীন কাজ নেই তারা করেনি। কল্যাণ পার্টির জেনারেল ইব্রাহিমের জোটের সাথে এবং বিএনপি নেতা শাহজাহান ওমর সহ কিছু নেতার দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা তার প্রমাণ। অন্যদিকে দলছুট বিএনপি নেতা শমশের মবিন চৌধুরী, তৈমুর আলম খন্দকারদের পার্টিসহ একাধিক কিংস পার্টি গঠন, অখ্যাত কিছু দল এবং জাতীয় পার্টি, ১৪ দলীয় জোটকে নির্বাচনে এনে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখানোর ভণ্ডামি করে। 

 গৃহপালিত জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব জিএম কাদের বেশ কিছুদিন ধরে আওয়ামী সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে বেড়ালেও হাসিনা-আওয়ামী লীগের জাতীয় পার্টিতে ভাঙ্গন ধরানোর ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ঠেকাতে এবং ভারতের অদৃশ্য হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী সরকারের কাছে নতজানু হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়। হাসিনা-আওয়ামী সরকার জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আসতে বাধ্য করলেও তাদেরকে আগের মত তোয়াজ করেনি। ফলে আসন ভাগাভাগির দর কষাকষিতে মাত্র ২৬টি নৌকার আসন ছাড়তে রাজী হয় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে ইনু-মেননদের ১৪ দলীয় জোটকে এবার হাসিনা পাত্তাই দেয়নি। তারা খুদ-কুঁড়ার লোভ সামলাতে না পেরে ক্ষমতাসীনদের পদলেহন করে মাত্র ৬টি আসনে নৌকার প্রার্থী হতে পেরেছিল। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি, গো-হারা হেরেছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের জামানত বাতিল হয়েছে। জাতীয় পার্টি ১১টি এবং ইনু-মেননরা মাত্র ২ টি আসনে নৌকার মাঝি হতে পেরেছে। মেনন হতে পারলেও ইনুর অভিলাষ পূরণ হয়নি স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের বিরাগভাজন হওয়ায়।

  হাসিনা-আওয়ামী সরকার কুক্ষিগত ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা কয়েম করতে এবারের নির্বাচনে নতুন কৌশল নিয়েছে। তারা নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা-পূর্ণ দেখাতে এবং ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আওয়ামী মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের ডামি প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্রতে দঁাড় করিয়ে দেয়। নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে নৌকা-স্বতন্ত্রদের প্রতিযোগিতা, হানাহানি, খুনো-খুনি, হুমকি-ধমকী নির্বাচনের পূর্বাপর চলছেই। ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন সব ধরনের জালিয়াতি, কারচুপি করে জেতার জন্য যা করা দরকার সবই করেছে। তা সত্বেও ভোটশূন্য কেন্দ্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী-বিহীন নির্বাচন হয়েছে। 

বিএনপি বা সমমনারা যাতে ভোটের দিন কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশের সাথে কয়েক শ’ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করে বিজিবি ও সেনাবাহিনী নামিয়ে তামাশার নির্বাচনকে নিরাপদ করেছে। একদলীয় শাসন নব্য বাকশালী ব্যবস্থা পাকপোক্ত করেছে। এখন প্রধানমন্ত্রী, ও. কাদের, হাসান মাহমুদ– দুই কান কাটা লোকের মত মাথা উদাম করে তারস্বরে চেঁচাচ্ছে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে– ইত্যাদি। শ্রমজীবী নারী-পুরুষ জনগণের প্রতিক্রিয়া– “এই বেডিরেতো কেউ নামাইতেই পারলো না”। 

তড়িঘড়ি করে পূর্বের সংসদ এবং মন্ত্রী পরিষদ বহাল রেখেই নয়া সাংসদদের শপথ নেয়া এবং নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করেছে যা তাদের নিজেদের সংবিধান মতেই অবৈধ। কিন্তু বিরোধী দল নির্ধারণ, সংরক্ষিত নারী আসনের ভাগাভাগি নিয়ে হাসিনা-আওয়ামী সরকার সংকটে রয়েছে। তবে কুক্ষিগত ক্ষমতার নবায়ন করতে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পক্ষে সব কিছুই করা সম্ভব। তারা ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টিকে বিরোধীদল এবং একই সাথে মন্ত্রীসভায়ও রেখেছিল। নির্বাচন প্রশ্নে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব দ্বিধা বিভক্ত থাকলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী গং আপাতত হাসিনা সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে দর কষাকষিতে লিপ্ত, এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

জনগণের করণীয় হচ্ছে– এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ও সরকারের জগদ্দল পাথর নামাতে এবং শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের অস্থায়ী গণসরকার গঠনের পটভূমি তৈরিতে বহুবিধ সংগ্রামকে বেগবান করা।

ডামি নির্বাচনে কুক্ষিগত ক্ষমতার নবায়ন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বেগবান করুন

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

৭ জানুয়ারি’২৪ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে দেশের বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল পার্টি-সংগঠন এবং বুর্জোয়া বিরোধী দল বিএনপিসহ তাদের সমমনা দলগুলো। সেই সাথে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণও। কিন্তু হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার ডামি নির্বাচনের আয়োজন করে তাদের বশংবদ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। এমন একটি কুখ্যাত ডামি নির্বাচন করতে তারা বিরোধী বুর্জোয়া দল বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে ২৮ অক্টোবর’২৩ যে ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটিয়েছিলো দেশবাসী তা অবগত। বিএনপি’র ভেতরে ভাঙ্গন ধরানো এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাতে গ্রেফতারকৃত নেতাদের উপর নির্যাতন, চাপ সৃষ্টি, হালুয়া-রুটির প্রলোভনসহ এমন কোনো হীন কাজ নেই তারা করেনি। কল্যাণ পার্টির জেনারেল ইব্রাহিমের জোটের সাথে এবং বিএনপি নেতা শাহজাহান ওমর সহ কিছু নেতার দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা তার প্রমাণ। অন্যদিকে দলছুট বিএনপি নেতা শমশের মবিন চৌধুরী, তৈমুর আলম খন্দকারদের পার্টিসহ একাধিক কিংস পার্টি গঠন, অখ্যাত কিছু দল এবং জাতীয় পার্টি, ১৪ দলীয় জোটকে নির্বাচনে এনে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখানোর ভণ্ডামি করে। 

 গৃহপালিত জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব জিএম কাদের বেশ কিছুদিন ধরে আওয়ামী সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে বেড়ালেও হাসিনা-আওয়ামী লীগের জাতীয় পার্টিতে ভাঙ্গন ধরানোর ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ঠেকাতে এবং ভারতের অদৃশ্য হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী সরকারের কাছে নতজানু হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়। হাসিনা-আওয়ামী সরকার জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আসতে বাধ্য করলেও তাদেরকে আগের মত তোয়াজ করেনি। ফলে আসন ভাগাভাগির দর কষাকষিতে মাত্র ২৬টি নৌকার আসন ছাড়তে রাজী হয় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে ইনু-মেননদের ১৪ দলীয় জোটকে এবার হাসিনা পাত্তাই দেয়নি। তারা খুদ-কুঁড়ার লোভ সামলাতে না পেরে ক্ষমতাসীনদের পদলেহন করে মাত্র ৬টি আসনে নৌকার প্রার্থী হতে পেরেছিল। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি, গো-হারা হেরেছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের জামানত বাতিল হয়েছে। জাতীয় পার্টি ১১টি এবং ইনু-মেননরা মাত্র ২ টি আসনে নৌকার মাঝি হতে পেরেছে। মেনন হতে পারলেও ইনুর অভিলাষ পূরণ হয়নি স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের বিরাগভাজন হওয়ায়।

  হাসিনা-আওয়ামী সরকার কুক্ষিগত ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা কয়েম করতে এবারের নির্বাচনে নতুন কৌশল নিয়েছে। তারা নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা-পূর্ণ দেখাতে এবং ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আওয়ামী মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের ডামি প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্রতে দঁাড় করিয়ে দেয়। নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে নৌকা-স্বতন্ত্রদের প্রতিযোগিতা, হানাহানি, খুনো-খুনি, হুমকি-ধমকী নির্বাচনের পূর্বাপর চলছেই। ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন সব ধরনের জালিয়াতি, কারচুপি করে জেতার জন্য যা করা দরকার সবই করেছে। তা সত্বেও ভোটশূন্য কেন্দ্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী-বিহীন নির্বাচন হয়েছে। 

বিএনপি বা সমমনারা যাতে ভোটের দিন কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশের সাথে কয়েক শ’ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করে বিজিবি ও সেনাবাহিনী নামিয়ে তামাশার নির্বাচনকে নিরাপদ করেছে। একদলীয় শাসন নব্য বাকশালী ব্যবস্থা পাকপোক্ত করেছে। এখন প্রধানমন্ত্রী, ও. কাদের, হাসান মাহমুদ– দুই কান কাটা লোকের মত মাথা উদাম করে তারস্বরে চেঁচাচ্ছে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে– ইত্যাদি। শ্রমজীবী নারী-পুরুষ জনগণের প্রতিক্রিয়া– “এই বেডিরেতো কেউ নামাইতেই পারলো না”। 

তড়িঘড়ি করে পূর্বের সংসদ এবং মন্ত্রী পরিষদ বহাল রেখেই নয়া সাংসদদের শপথ নেয়া এবং নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করেছে যা তাদের নিজেদের সংবিধান মতেই অবৈধ। কিন্তু বিরোধী দল নির্ধারণ, সংরক্ষিত নারী আসনের ভাগাভাগি নিয়ে হাসিনা-আওয়ামী সরকার সংকটে রয়েছে। তবে কুক্ষিগত ক্ষমতার নবায়ন করতে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পক্ষে সব কিছুই করা সম্ভব। তারা ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টিকে বিরোধীদল এবং একই সাথে মন্ত্রীসভায়ও রেখেছিল। নির্বাচন প্রশ্নে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব দ্বিধা বিভক্ত থাকলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী গং আপাতত হাসিনা সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে দর কষাকষিতে লিপ্ত, এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

জনগণের করণীয় হচ্ছে– এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ও সরকারের জগদ্দল পাথর নামাতে এবং শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের অস্থায়ী গণসরকার গঠনের পটভূমি তৈরিতে বহুবিধ সংগ্রামকে বেগবান করা।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র